‘স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে’ বড় সিদ্ধান্ত লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের! রাহুলের মৃ’ত্যুকাণ্ডে মাম’লা আর জনরো’ষ! চাপ বাড়তেই টালমাটাল ইন্ডাস্ট্রি, ওয়েস্ট বেঙ্গল উইমেনস কমিশনের চেয়ারপার্সন পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন লেখিকা! তদন্তে নিরপেক্ষতার বার্তা!

প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) মৃ’ত্যুর পর থেকে গোটা ঘটনাটা যেন ধীরে ধীরে আরও জটিল হয়ে উঠছে। শ্যুটিং স্পটে ঠিক কী হয়েছিল, তা নিয়ে একের পর এক ভিন্ন বক্তব্য সামনে আসছে, আর তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টের অসঙ্গতি। কেউ বলছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাঁকে জল থেকে তুলে আনা হয়েছিল, আবার রিপোর্ট বলছে দীর্ঘক্ষণ জলের নিচে থাকার ইঙ্গিত। এই দুই বিপরীত তথ্যই এখন প্রশ্ন তুলছে, সত্যিটা আসলে কোথায় লুকিয়ে আছে?

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টস। জনমত, শিল্পী মহল এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রশ্নের মুখে পড়ে অবশেষে সংস্থার তরফে একটি বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে তারা দাবি করেছে, পুরো ঘটনার তদন্ত যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হয়, সেটাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। এই চাপের প্রেক্ষিতেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay) ওয়েস্ট বেঙ্গল উইমেনস কমিশনের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে!

সংস্থার বক্তব্য, এই পদে থাকলে তদন্তের উপর কোনও প্রভাব পড়ছে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতেই পারে, তাই স্বচ্ছতার স্বার্থেই এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে, এই মৃ’ত্যুকে ঘিরে আইনি লড়াইও শুরু হয়ে গেছে। আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে সর্বভারতীয় সিনে সংগঠনের কাছে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেই খবর। শুধু দায় নির্ধারণই নয়, ক্ষতিপূরণের দাবিও উঠেছে জোরালোভাবে। শিল্পীদের একাংশ মনে করছেন, শ্যুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি।

কোনও জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা বা অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্নও এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ঘটনার বিবরণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তা আরও ঘনীভূত করেছে ইউনিটের সদস্যদের বক্তব্য। কেউ বলছেন হঠাৎ একটি অতিরিক্ত শট নেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই বিপদ শুরু, আবার কেউ বলছেন সবকিছুই ছিল পরিকল্পনার মধ্যেই। লীনা নিজে জানিয়েছেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এবং অন্যদের কাছ থেকে যা শুনেছেন, সেটাই জানিয়েছেন। ফলে তাঁর বক্তব্যও একপ্রকার পরোক্ষ।

আরও পড়ুনঃ প্রযোজনা সংস্থার নামে এফআইআর? স্বামীর অস্বাভাবিক মৃ’ত্যুতে ৩৫ বছরেই বৈধব্য যন্ত্র’ণায় প্রিয়াঙ্কা সরকার, এবার হাঁটলেন আইনি পথে! রাহুল অরুণোদয়ের মৃ’ত্যুর তদন্তে নড়েচড়ে বসেছে আর্টিস্ট ফোরাম? বিচার না পেলে, টলিউড শিল্পীদের কর্মবিরতির ডাক?

যা এই জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। শ্যুটিংয়ের অনুমতি, স্থানীয় ব্যবস্থাপনা, সবকিছু নিয়েই এখন খুঁটিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাই রাহুলের মৃ’ত্যু এখন আর শুধু একটি দুর্ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি পরিণত হয়েছে দায়বদ্ধতা, নিরাপত্তা এবং স্বচ্ছতার বড় আলোচনায়। কেন শ্যুটিং ইউনিটের অনেককে তাঁর শেষকৃত্যে দেখা যায়নি, সেটাও মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট উত্তর মিলবে না ঠিকই, কিন্তু তার আগেই যে প্রশ্নগুলো উঠছে, সেগুলোই এই ঘটনার গুরুত্বকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।

You cannot copy content of this page